ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচন টেক্সাসে

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১১:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ১১:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচন টেক্সাসে ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন টেক্সাসের ভোটাররা। মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর পক্ষে ব্যয় হয়েছে অন্তত ৫৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। 
এই অর্থের মধ্যে ধনকুবের ইলন মাস্কের দেওয়া অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলারও রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সদর দপ্তর টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলে। খবর আল জাজিরার। 
নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে দুই দলের ভোটারদের মধ্যেই অস্বস্তি দেখা গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এত অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
৪০ বছর বয়সী শ্রমিক রিকো সানচেজ বলেন, এত অর্থ ভুল খাতে ব্যয় হচ্ছে। তার মতে, বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
২১ বছর বয়সী ভোটার কেইসি ব্লাঙ্কোও বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, রাজনীতিতে অর্থশালীদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ভীতিকর। রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতেই থাকা উচিত।
নির্বাচনি ব্যয়ের মধ্যে প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচার তহবিল এবং বাইরের সংগঠনগুলোর ব্যয়ও রয়েছে।
তালারিকো নিজের প্রচার তহবিলে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে প্যাক্সটন পেয়েছেন ৪ কোটি ডলার। ব্যক্তিগত অনুদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অর্থদাতার পরিচয় প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
তবে সুপার পিএসি নামে পরিচিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলো প্রার্থীদের পক্ষে সীমাহীন অর্থ ব্যয় করতে পারে। এসব সংগঠন সরাসরি কোনো প্রার্থীর প্রচারশিবিরের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে না।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী প্যাক্সটন। মাস্কের দেওয়া ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার সিনেট লিডারশিপ ফান্ডের মাধ্যমে তার প্রচারে ব্যয় হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় কমানোর বিভাগ ডিওজিইর সাবেক প্রধান মাস্ক প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। তবে গোপন অর্থায়নের কারণে প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের সমর্থক সংগঠন এমএজিএ ইনকরপোরেটেডও প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত এক কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তালারিকোর পক্ষে লোন স্টার রাইজিং পিএসি অন্তত দুই কোটি ১০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে সোমবার (২ নভেম্বর) প্রচার চালান দুই প্রার্থী। তালারিকো টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনেন। একই সঙ্গে মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয়কে সাধারণ ভোটারের স্বার্থের চেয়ে ধনীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সান আন্তোনিওতে এক সমাবেশে তালারিকো বলেন, আমরা অসাধারণ ও ঐতিহাসিক কিছু করতে যাচ্ছি। টেক্সাসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে নিয়ে বিলিয়নিয়ারদের এবং বিশ্বকে চমকে দেব।
অন্যদিকে প্যাক্সটন তালারিকোকে টেক্সাসের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের বিপরীত বলে প্রচার করছেন। গত তিন দশক ধরে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
১৮৩৬ সালের টেক্সাস বিপ্লবের প্রসঙ্গও বারবার তুলে ধরেছে প্যাক্সটনের প্রচারশিবির। ওই বছর মেক্সিকোর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল টেক্সাস।
প্যাক্সটন বলেন, টেক্সাসের মানুষের চাকরি, জীবিকা ও জীবনযাত্রার ধরন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘টেক্সাস হারালে যাওয়ার জন্য আমাদের আরেকটি টেক্সাস নেই।’
৪৬ বছর বয়সী ভোটার মনিক ওরেলানা ইলন মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, মাস্ক বিপুল অর্থ ঢালছেন। কিন্তু এর পেছনে তার উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্ট নয়।
তবে দল-মত নির্বিশেষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের হয়ে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ওরেলানা বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে তিনি তাদের ভোট দিতেন। কিন্তু ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি বলে তার অভিযোগ।
অন্যদিকে ৫৮ বছর বয়সী ভোটার লুইস প্লাজাস নির্বাচনি ব্যয়ের চেয়ে অর্থনীতির উন্নতি এবং ট্রাম্পের গণহারে অভিবাসী বহিষ্কার নীতি পরিবর্তনের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। তার মতে, পারিবারিক ও রক্ষণশীল মূল্যবোধের বিষয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান তার বিশ্বাসের কাছাকাছি।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ